রক্তচাপের অ আ ক খ

‘সেদিন যা মাথা ঘোরাচ্ছিল! ভাবলাম প্রেশারটা বাড়লো বোধ হয়। ডাক্তার মেপে বললেন না ঠিকই আছে ১২০ আর ৮০’

‘ আমি তো একদিন ওষুধ না খেলে উপরে ১৪০ আর নিচে ১০০ হয়ে বসে থাকে ‘

রোজকার কথোপকথন আমাদের। কিন্তু এই যে দু’টো সংখ্যায় বাঁধা আপনার আমার রক্তচাপ এ দিয়ে আসলে কি বোঝায়? কখন তা স্বাভাবিক, কখন অস্বাভাবিক? জানতে ইচ্ছে করছে তো? ইচ্ছের চেয়েও বড় কথা, এগুলো জানা  এবং বোঝা আমাদের সুস্থতার জন্য খুবই জরুরী। কারণ রক্তচাপের অতিরিক্ত ওঠানামা হতে পারে হৃদরোগ বা কোন বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত। আর যদি পরিবারে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা রক্তচাপজনিত সমস্যার ইতিহাস থেকে থাকে, তবে তো একে অবহেলা করার কোন সুযোগই নেই।

তাই আসুন রক্তচাপ সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানি।উচ্চ রক্তচাপ বর্তমান সভ্যতার একটি মহামারি রোগ। এটি একটি নিরব ঘাতক ব্যাধি। প্রাপ্তবয়স্কদের(১৮ বছরের বেশি) মধ্যে শতকরা ২০ জনের উচ্চ রক্তচাপ আছে। আশঙ্কার কথা এই যে, বর্তমান কালে শিশুকিশোরদের শতকরা ১০ জন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ এর কোন কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। বাকি ১০ ভাগের ক্ষেত্রে কারন জানা যায়। তবে যাদের কারন জানা যায় না তাদের মধ্যে কতোগুলো ফ্যাক্টর নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যেমন বংশে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস, স্থুলতা, অলসতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নাকডাকা( নাকডাকার সাথে সাথে শ্বাস বন্ধ হওয়া), ডায়াবেটিস, ধূমপান, মদ্যপান ও অন্যান্য নেশায় আসক্তি উল্লেখযোগ্য। রক্তচাপের দু’টো সংখ্যার মধ্যে যেটি বেশী সেটি হল সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার, আর কম সংখ্যাটি নির্দেশ করে ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশার। প্রতিটি হৃদস্পন্দনের সময় হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয় এবং সেই চাপে রক্ত সমগ্র শরীরের ধমনীতে ছড়িয়ে পড়ে। রক্তনালীর দেয়ালে এসময় রক্ত যে চাপ দেয় এটিই হচ্ছে সিস্টোলিক প্রেশার। আর দু’টো হৃদস্পন্দনের মধ্যবর্তী সময়ে অর্থাৎ হৃদপিণ্ড যখন শিথিল থাকে সে সময়ে ধমনীর গায়ে রক্তের যে চাপ বিরাজমান থাকে, সেটাই ডায়াস্টোলিক প্রেশার।

আমাদের হৃদপিণ্ড ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা বোঝার জন্য রক্তচাপ এর একটি উপযুক্ত নির্দেশিকা Joint National Committee( JNC 7) ঠিক করে দিয়েছে -

ব্লাড প্রেশারের মাত্রা

সিস্টোলিক প্রেশার

 

ডায়াস্টোলিক প্রেশার

স্বাভাবিক

১২০ এর কম

এবং

৮০ এর কম

উচ্চ রক্তচাপের পূর্বাবস্থা

(প্রি-হাইপারটেনশন)

১২০ - ১৩৯

অথবা

৮০ - ৮৯

উচ্চ রক্তচাপ স্টেজ ১

১৪০ - ১৫৯

অথবা

৯০ - ৯৯

উচ্চ রক্তচাপ স্টেজ ২

১৬০ বা এর বেশী

অথবা

১০০ বা এর বেশী

মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চ রক্তচাপ

(হাইপারটেন্সিভ ক্রাইসিস)

১৮০ এর বেশী

অথবা

১১০ এর বেশী

স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি রক্তচাপ থাকলে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সঠিকভাবে নির্ণয় করাতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে এই উচ্চ রক্তচাপ বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থেকে হতে পারে প্রাণঘাতী হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও ব্রেইন স্ট্রোক, অন্ধত্ব, কিডনি ফেইলিউর ও পা এর রক্ত চলাচল ব্যাঘাতের মত জটিলতা।

বয়স যত বাড়ে, বিশেষ করে পঞ্চাশের পর সিস্টোলিক প্রেশার বাড়তে থাকে, যাকে সিস্টোলিক হাইপারটেনশন বলে।এক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে মূল কারনটি চিহ্নিত করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ কোন সাময়িক চিকিৎসা নয়। এই রোগের জটিলতা থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে।

মনে রাখতে হবে যে রক্তচাপকে নিরাপদ মাত্রার মধ্যে রাখা আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের ভালো থাকার জন্য প্রয়োজন। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপার অভ্যাস করুন আর দেহমনকে সুস্থ রাখুন।

২১৯০ বার পড়া হয়েছে মে ১৪, ২০১৭


২১৯০ বার পড়া হয়েছে


Dr. Siddiq's picture

লিখেছেন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু সিদ্দিক

হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

উত্তর দেখুন
 
লোডিং...

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top