তাড়াহুড়ো করে খাওয়া নয়

ব্যস্ত জীবনে দিনের শুরু থেকেই দৌড়ের ওপর থাকতে হয়। আর দৌড়াতে গিয়ে অনেকে খাওয়ার সময়টুকুও পান না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের জন্য এই সমস্যা নিত্যদিনের। অনেকে সকাল সকাল নাশতার টেবিলে আর বসার সময় পান না। রাস্তা থেকেই চট করে কিছু খেয়ে নেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।

দুশ্চিন্তা হজম শক্তি কমায়

অফিসে দ্রুত পৌঁছাতে হবে কিংবা ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে - এমন দুশ্চিন্তা যখন মাথায় ঘুরপাক খায়, তখন কিন্তু আমাদের পাকস্থলীও সে চাপ টের পায়।

যখন আপনি তাড়াহুড়ো এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন, তখন আপনার শরীরের সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকে সুরক্ষার দিকে। বলা যায়, হঠাৎ বাঘের সামনে পড়ে গেলে যেমন লাগবে, অনেকটা তেমনই অবস্থা থাকে তখন শরীরের। বেড়ে যায় হৃদপিণ্ডের গতি, রক্তচাপ। তখন কোনোভাবেই খাবার গেলার মতো অবস্থায় থাকেন না আপনি।

যখন আপনি কিছুক্ষণের জন্য খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন, আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায় যেন আপনি কাজ করার জন্য বেশি এনার্জি পান।  অপরদিকে শরীর তার অন্যান্য কার্যক্রম যেগুলোর আপাতত প্রয়োজন নেই ভেবে সেগুলো কিছু সময়ের জন্য কমিয়ে দেয়, যেমন হজম করার ক্ষমতা। এসব কারণে দুশ্চিন্তায় থাকলে ক্ষুধা লাগে না।

আবার মানসিক চাপ যদি হয়ে ওঠে আপনার নিত্যসঙ্গী, তখন ব্যাপারটা হয়ে যায় উল্টো। কীভাবে? দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা করলে শরীরে ছড়ায় কিছু স্ট্রেস হরমোন, যার ফলে শরীর চর্বিযুক্ত এবং চিনিযুক্ত খাবার খেতে চায়। দুশ্চিন্তার ফলে মানুষ অনেক সময়ই বেশি খেয়ে ফেলে, বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার। ফলাফল হয় অহেতুক ওজন বৃদ্ধি। তাই মনে রাখবেন, দুশ্চিন্তা কখনও ভাল ফল বয়ে আনে না।

শরীর-মনের সম্পর্ক

কাজ করতে করতে খাচ্ছেন? শরীরের অনেক ইশারা হয়ত খেয়ালই করছেন না। খাওয়ার সময় শরীর আমাদের অনেক ধরনের ইঙ্গিত দেয়, যেমন ক্ষুধা লাগলো কী না কিংবা পেট ভরেছে কী না। যদি খাওয়ার সময় আপনি কোনো কাজের দিকে মনোযোগ দেন, তাহলে শরীরের দেয়া সংকেত আপনি হয়ত বুঝতেই পারবেন না। এভাবে দীর্ঘদিন চালিয়ে গেলে এক সময় শরীরের দেয়া সংকেতগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন ক্ষুধা লাগলেও টের পাবেন না। আবার বেশি খেলেও বুঝতে পারবেন না।

খাবার উপভোগ করার সুযোগ নেই

যখন আপনি তাড়াহুড়ো করে মনে দুশ্চিন্তা নিয়ে খান, তখন অনেক মজার খাবারের স্বাদও ফিকে মনে হয়, তাই না? কোনো মতে মুখে গুঁজে দিচ্ছেন কিছু একটা। এভাবে আপনার শরীরও খাবারটি উপভোগ করতে পারছে না।

মনে রাখবেন

আমাদের সব পরিশ্রম কিন্তু খাওয়ার জন্যেই। একবার ভেবে দেখুন তো, পেটের তাগিদ না থাকলে এত কষ্ট কয়জন করতো? সেই খাবার খাওয়ার জন্যেই যদি সময় বের করতে না পারেন, তাহলে কিন্তু ষোল আনাই বৃথা।

আপনি কি স্বাস্থ্য সচেতন? ভাবছেন তাড়াহুড়ো করে খেলে অল্পতেই খাওয়া হয়ে যাবে? না। দুশ্চিন্তা নিয়ে দৌড়ের ওপর খেলে আপনার শরীরে ঢুকবে সব অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনেক সময় পরিমাণের চেয়েও বেশি খাওয়া হবে, আপনি বুঝতেও পারবেন না। তাই খাওয়ার সময় শুধু খাবারের দিকে মন দিন, খাবার উপভোগ করলে আপনার স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং হজম ক্ষমতাও বাড়বে।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে এখনি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন #mytonic লিখে।

৪৯৬ বার পড়া হয়েছে জুলাই ২৩, ২০১৬


৪৯৬ বার পড়া হয়েছে


tonicadmin's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

আমার উচ্চতা 5ফিট 7 ইন্চি আমার শরীরের ওজন 50 কেজি এই ওজন কি আমার শরীরের জন্য ঠিক আছে কি ?আর আমি ওজ... উত্তর দেখুন

star

Answered 23 hours ago by

Dr. Qamrun Ahmed MAkbool

Topic: Nutrition

Badam ki ogon barai. Please bolun. উত্তর দেখুন

star

Answered 2 days ago by

Dr. Qamrun Ahmed MAkbool

Topic: Nutrition

Badam ki ogon barai. Please bolun. উত্তর দেখুন

star

Answered 2 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Nutrition

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top