ড্যানিয়েল কোলি

ছুটির দিনগুলোতে বা অফিস থেকে ফিরে বিকেলের সময়টুকু সন্তানের সঙ্গেই কাটাতে চান আপনি। কিন্তু কি করা যায় যাতে ওরাও আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে উৎসাহ পাবে? টনিক বাতলে দিচ্ছে এমন ৮টি উপায় যাতে কেবল ওদের নয়, আপনারও একঘেয়েমি কাটবে আর ঝুলিতে পুরে নিতে পারবেন কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত।

নাচের আসর

শিশুরা সব সময় প্রাণশক্তিতে ভরপুর। তাদের এই শক্তি খরচ করার জন্য নাচ হতে পারে দারুণ উপায়।

বাচ্চাদের নিয়ে বসিয়ে দিন নাচের আসর। কখনো ডিজের ভূমিকা পালন করুন, কখনো হাত-পা ছুঁড়ে ফ্রি স্টাইলে নাচুন। চাইলে সহজ কিছু নাচের ভঙ্গি শিখে সবাই মিলে পারফর্ম করুন।

কিভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? চিন্তা নেই। ইউটিউবেই পেয়ে যাবেন নানা ধরনের নাচের ভিডিও এবং টিউটোরিয়াল। চাইলে দেখে দেখে অনুকরণ করতে পারেন কিংবা শিখে নিতে পারেন।

ঘরের ভেতর দুর্গ

ছোটবেলায় এই খেলা আমরা সবাই খেলেছি, বড়দের বকাও খেয়েছি। এবার শিশুদের সঙ্গে নিজেই শিশু বনে যান। অনেকগুলো চেয়ার জড়ো করুন। কয়েকটি চাদরের কোনা চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে তৈরি করুন বিশাল এক দুর্গ। ভেতরে কটা বালিশও পুরে দিন। ঘর নোংরা হচ্ছে এসব না ভেবে চিন্তা করুন নিজেদের আলাদা রাজ্য তৈরি করছেন।

দুর্গ বানানো হলে এবার মজার কোনো খাবার নিয়ে আসুন, দুর্গের ভেতর হয়ে যাক পিকনিক।

গাড়ি দৌড়

বাচ্চাদের যত খেলনা গাড়ি আছে সবগুলো নিয়ে শুরু হয়ে যাক গাড়ির দৌড়। ছোট কিংবা বড় - সব ধরনের গাড়ি যোগ দিক এই রেইসে।

বাড়িতে খানিকটা লম্বা করিডর থাকলে তা পরিষ্কার করে নিন, অথবা কোন ঘরের একটি অংশে জায়গা করে নিন দৌড়ের জন্য। সবগুলো গাড়ি পাশাপাশি রাখুন, এরপর ‘রেডি, সেট গো!’ বলে সবগুলো গাড়ি ছুটিয়ে দিন একসঙ্গে!

হয়ে যান বিজ্ঞানী

অনলাইনে অনেক ছোট ছোট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরিকল্পনা পাবেন, যেগুলো গৃহস্থালী নানা উপকরণ দিয়েই করা যায়। দুধ, ডিটারজেন্ট পাউডার, সিরকা জাতীয় জিনিস দিয়ে চালানো এসব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা আপনার বাচ্চাদের জানার আগ্রহ যেমন বাড়াবে, তেমনই ওরা নতুন অনেক কিছু শিখতে পারবে।

ইন্টারনেটে সার্চ করে বয়স অনুযায়ী নিরাপদ অনেক ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ধারণা পাবেন। সিরকা ঢেলে খুব সহজেই ডিমের খোসা গলিয়ে ফেলা যায়, কিংবা দড়ি দিয়ে দুটো টিন সংযুক্ত করলে যে মোবাইলের মত কথা বলা ও শোনা যায়—এসব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চলুক আপনাদের গবেষণাগারে।

রান্নার সঙ্গী

বেশিরভাগ বাচ্চাই রান্নাঘরে কাজ করতে ভালোবাসে। আর নিজের হাতে কিছু বানালে তা খাওয়ার জন্য আগ্রহের সীমা থাকে না। আপনার বাচ্চার বয়স যাই হোক না কেন, রান্নাঘরে আপনাকে সাহায্য করতে সে সব সময়ই খুশি হবে।

তাকে সঙ্গে নিয়ে কেক বানাতে পারেন, তার ওপরই না হয় কেক সাজানোর ভার দিলেন। কিংবা আলুর চপ বানানোর সময় তাকে বললেন চপগুলো গড়ে দিতে। এভাবে তার রান্নার উপকরণ এবং পদ্ধতি সম্পকর্ে ধারণা জন্মাবে, পাশাপাশি তার সময়ও কাটবে।

ব্যান্ড শো

সসপ্যান, হাঁড়ির ঢাকনা, প্লাস্টিকের বৈয়াম এসব দিয়েই কিন্তু বানিয়ে ফেলা যায় দারুণ সব বাদ্যযন্ত্র! শব্দ নিয়ে নীরিক্ষা করার সময় তো এখনই। সসপ্যানে খুন্তির তালের সঙ্গে বুটের ডাল ভরা বয়ামের ঝাঁকুনির শব্দ কিভাবে নতুন ধরনের ছন্দ তৈরি করে পরীক্ষা করেই দেখুন না!

বোতলে অল্প করে পানি ভরে তা ঝাঁকালেও বিচিত্র শব্দ হয়, সেইসঙ্গে চাল রাখার ড্রাম বাজাতে সব বাচ্চাদেরই ভাল লাগবে। গৃহস্থালী জিনিসপাতি দিয়ে তৈরি করতে পারেন নতুন ধরনের সংগীত।

যেমন খুশি তেমন সাজো

দস্যু কিংবা ভূত, রাখাল কিংবা ভিখারি—নিজের কল্পনার দুয়ার খুলে দিন। পুরনো কাপড়ের ভাণ্ডার সবার বাড়িতেই থাকে। সেগুলো দিয়েই চলুক যা খুশি তাই সাজা। আরও মজা হবে যদি মুখের সাজটাও হয়। এক্ষেত্রে ফেইস পেইন্ট ব্যবহার করতে পারেন। যদি ফেইস পেইন্ট না থাকে, মেইকআপ লাগিয়ে নিন।

আসলে বাচ্চাদের আনন্দ দেয়ার জন্য দামী দামী খেলনার প্রয়োজন নেই। তাদের ভেতর শুধু কল্পনার বীজ বুনে দিন, বাকিটা তারা নিজেরাই করবে।

লেখালেখি-আঁকিবুঁকি

সবাই মিলে একসঙ্গে ছবি এঁকে এঁকে গল্প তৈরি করতে পারেন। একসঙ্গে কয়েকটি কাগজ নিয়ে পিন দিয়ে আটকে নিন। এরপর ছবি এঁকে গল্প বানান।

চাইলে একটি কিংবা অনেকগুলো ছবি আঁকতে পারেন। বই বানিয়ে তা নিজের কাছে রেখে দিন, বাচ্চারা বড় হয়ে গেলে তা খুব সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

tonicadmin's picture
লিখেছেন
টনিক
Tonic is there to assist you no matter how big or small your problems may be