বন্ধ্যাত্বঃ কি এবং কেন?

সন্তান এক স্বর্গীয় উপহার। কোলজুড়ে একটি শিশু আর ঘরজুড়ে তার ছুটোছুটি প্রত্যেক দম্পতির স্বপ্ন। তবে মানুষের আরো অনেক অপূর্ণ স্বপ্নের মত এই স্বপ্নটিও হয়তো কারো কারো পূরণ হয়না। আর শুধু তারাই জানেন স্বপ্নভঙ্গের এ বেদনা কতটা অসহ।

তাই বন্ধ্যাত্ব এক করুণ হতাশার নাম। তবে আশার কথা এটাই যে আমরা যাকে বন্ধ্যাত্ব বলে ভাবি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তেমনটা নয়- বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য, নিরাময়যোগ্য সমস্যা। স্বামী বা স্ত্রী যে কারোর কারণেই সন্তান ধারণে অসুবিধা হতে পারে, প্রয়োজন শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সে কারণটি চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা।

পুরো এক বছর কোন ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরেও যদি কোন দম্পতি গর্ভধারণে ব্যর্থ হন তবেই একে বিশেষজ্ঞরা বন্ধ্যাত্ব বলে থাকেন। বেশীরভাগ সময় স্ত্রীর কোন সমস্যা এর কারণ হয়ে থাকলেও অন্তত শতকরা ত্রিশ ভাগ ক্ষেত্রে স্বামীর অসুবিধাই বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী। এমনও দেখা গেছে যে দুজনের কারোরই শারীরিক সমস্যা না থাকার পরেও অজ্ঞাত কোন কারণে সন্তান ধারণ সম্ভব হচ্ছে না।

মহিলাদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ অর্থাৎ ওভুলেশনে সমস্যা, জরায়ুর কোন ত্রুটি, ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লকেজ কিংবা বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ডিম্বাণু। অন্যদিকে শুক্রাণুর স্বল্পতা, মদ্যপান, ধূমপান, বেশী বয়স, কিছু কিছু ওষুধ, অসুস্থতা, কেমোথেরাপী বা রেডিওথেরাপী ইত্যাদি কারণে একজন পুরুষ সন্তান জন্মদানে অপারগ হতে পারেন।

সন্তান ধারণে সমস্যাটি ঠিক কোথায় তা নির্ণয় করবার জন্য চিকিৎসক প্রথমত দম্পতির সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে থাকেন। এরপর রয়েছে নানা ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা যেমন স্পার্ম স্টাডি, ওভুলেশন টেস্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাফী, হিস্টেরোসালপিংগোগ্রাফী, ল্যাপারোস্কপি ইত্যাদি। বন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজে বের করার পর এর চিকিৎসাপদ্ধতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। কখনো ওষুধের সাহায্যে বা অপারেশনের মাধ্যমে সমস্যা সারিয়ে তোলা সম্ভব। আবার কখনো চিকিৎসক কৃত্তিম উপায়ে গর্ভধারণ বা টেস্টটিউব বেবী নেয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ের অনেক উপায় আমাদের হাতে এনে দিয়েছে। তবে সন্তান ধারণ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ না করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করলে এই সমস্যাকে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কে: https://mytonic.com/bn/doctors  

২২৪০ বার পড়া হয়েছে জুলাই ১৭, ২০১৭


২২৪০ বার পড়া হয়েছে


agency_content's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

উত্তর দেখুন
 
লোডিং...

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top