ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন আপনিও

চোখের সামনে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর চালচিত্র। রোগব্যাধির কথাই ধরুন না। একসময় ক্যান্সার ছিল শুধু বয়স্কদের রোগ, তাও অতটা অহরহ দেখা যেতো না। আর ক্যান্সার ধরা পড়া মানেই ছিল নিশ্চিত মৃত্যু। এখন জীবনধারা বদলের কারণেই হোক, আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির কারণে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে বলেই হোক, যে কোন বয়সে ক্যান্সার হওয়াটা আর অত বিরল নয়। ক্যান্সারের চিকিৎসা করে দিব্যি সুস্থ জীবনযাপনও করছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যান্সার, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায়, এর চিকিৎসা এবং চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।

তাই যেটি করতে হবে, সেটি হল প্রতিটি নারীর মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি। স্তনে বা বগলে কোন চাকা, স্থায়ী ব্যথা, নিপলের আশেপাশে লালচে ভাব বা তরল নিঃসরণ, নিপল বসে যাওয়া, স্তনের আকার পরিবর্তন, চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি কোন লক্ষণকেই অবহেলা করা যাবে না। পাশাপাশি ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা কোনগুলো তা জানতে হবে-

  • পুরুষদেরও ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে, তবে নারীদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি প্রায় একশ গুণ বেশী।

  • বয়স যত বাড়ে, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বাড়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ধরা পড়ে ৫৫ বছর বয়সের পর। আর বয়স ৭০ পার হয়ে গেলে খুব খুব সাবধান।

  • কিছু জিন আছে যাদের সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে, যেমন বিআরসিএ ১ এবং ২ (BRCA 1 এবং BRCA2)। আপনার মা, বোন বা পরিবারের কারো যদি ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ইতিহাস থাকে, তবে হতে পারে যে বংশগতভাবে এই জিনগুলো আপনার মধ্যেও আছে। এছাড়া যে কোন সময় জিনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • একবার যদি কেউ যে কোন ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একইভাবে একটি স্তনে টিউমার পাওয়া গেলে অন্যটিতেও হবার আশংকা থাকে।

  • তুলনামূলক কম বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, মেনোপজ দেরীতে হওয়া, বেশী বয়সে প্রথম সন্তানধারণ অথবা একেবারেই সন্তান না হলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশী থাকে।

  • যাদের স্তনে কোষকলা বা টিস্যুর ঘনত্ব বেশী তারা একটু বেশী ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় টিউমার সনাক্ত করাও কঠিন। ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে ব্রেস্টের টিস্যুর ঘনত্ব বোঝা যায়।

  • এছাড়া শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অ্যালকোহল আসক্তি, রেডিয়েশন বা হরমোন থেরাপীতে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটি সমস্যা হল অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করতে করতে এমন পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে যখন ক্যান্সার অনেকখানি ছড়িয়ে গেছে, তেমন কিছু আর করার থাকে না। এ কারণেই এখনো পৃথিবী জুড়ে নারী মৃত্যুর একটি বড় কারণ ব্রেস্ট ক্যান্সার। তাই এ রোগের ঝুঁকিগুলোর ব্যাপারে সচেতন হোন, এবং নিজের দিকে খেয়াল রাখুন।

৯৯১৫ বার পড়া হয়েছে অক্টোবর ৯, ২০১৭


৯৯১৫ বার পড়া হয়েছে


agency_content's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

উত্তর দেখুন
 
লোডিং...

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top