মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুচক্র ও বন্ধ্যাত্ব

মাসিকের সমস্যা বা সন্তান ধারণে অসুবিধা, যে কোনটি নিয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে গেলে ডাক্তারের প্রথম প্রশ্নটিই হবে- মাসিক নিয়মিত হয় কিনা, শেষবার কখন হয়েছিল। এবং আসলেই এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে একজন নারীর শারীরিক অনেক সমস্যার নিবিড় যোগাযোগ। এ ব্যাপারটি যে শুধু চিকিৎসক জানেন তাই নয়, নারীরা নিজেরাও জানেন। তাই ঋতুচক্র নিয়মিত হচ্ছে কিনা সে নিয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন থাকেন। সেই সঙ্গে কিছু ভুল ধারণাও তাদের থাকে এই শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে।

একজন সুস্থ মহিলার ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু জরায়ুতে এসে পৌঁছে। এই ডিম্বাণু নিঃসরণ এবং জরায়ুকে সম্ভাব্য গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করতে নারীদেহে হরমোনের যে ওঠানামা ঘটে তারই ফলাফল তাদের মাসিক ঋতুচক্র। এর স্বাভাবিক ব্যাপ্তিকাল ২১ থেকে ৩৫ দিন। নিয়মিত ভাবে ও নিয়মিত দৈর্ঘ্যে মাসিক হবার অর্থ হল ডিম্বাণু নিঃসরণ অর্থাৎ ওভুলেশন নিয়মিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রয়েছে। অন্যদিকে ডিম্বাণুর স্বল্পতা বা হরমোনজনিত সমস্যা থেকে অনিয়মিত ওভুলেশনের কারণে মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য কমবেশী হতে পারে। অর্থাৎ একজন নারীর মাসিক ঋতুচক্র ও তার সন্তান ধারণে সক্ষমতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তাই মাসিকের কোন অনিয়ম হলে সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের  পরামর্শ নিন-

  • আপনার দুই মাসিকের মধ্যে ব্যবধান যদি ২১ দিনের কম হয় তবে সম্ভবত ওভুলেশন ঠিকমত হচ্ছে না। মহিলাদের মেনোপজ ঘনিয়ে এলে এমনটা হতে দেখা যায়। আবার ওভারীতে ডিম্বাণু কম থাকলেও এমনটা হতে পারে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক গর্ভধারণে অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • অনেকের মাসিক দেরীতে হয়। নিয়মিতভাবে ৩৫ দিনের বেশী ব্যবধানে, অথবা আরো বেশী অনিয়মিতভাবে হতে পারে। রক্তপাতের পরিমাণ খুব বেশী বা খুব কম যে কোনটাই হতে দেখা যায়। এরকম সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের হয়তো থাইরয়েডজনিত রোগ বা পলিসিস্টিক ওভারী থাকতে পারে। এ রোগগুলোতে হরমোনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে ফলে ওভুলেশন ও গর্ভধারণ দুটোতেই সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা হরমোন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে।

  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণ হতে পারে জরায়ুতে কোন পলিপ, টিউমার, ইনফেকশন বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার। তাই এরকম হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

  • যদি একজন নারীর কখনোই মাসিক না হয়ে থাকে তবে তার গর্ভধারণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রেও ডাক্তার দেখিয়ে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

মোটকথা, মাসিকের সমস্যা থাকলে সময়মত চিকিৎসা নিতে হবেই। আর এরপরও যদি সন্তান ধারণে অসুবিধা হয়, এবং বয়স ৩৫ পেরিয়ে যায় তবে বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।


ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কে: https://mytonic.com/bn/doctors

৩০৮৪ বার পড়া হয়েছে জুলাই ১৭, ২০১৭


৩০৮৪ বার পড়া হয়েছে


agency_content's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

উত্তর দেখুন
 
লোডিং...

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top