অতিরিক্ত ব্যায়াম ক্ষতিকর

শরীরচর্চা অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে হীতে বিপরীত হতে পারে।

শুধু সুস্বাস্থ্য নয়, ওজন কমিয়ে চিকন হওয়া অনেকের জন্য ব্যায়াম করার প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে গিয়ে অনেকে অতি মাত্রায় ব্যায়াম করতে করতে এটাকে একটা মানসিক ব্যাধিতে রূপ দেন।

কম্পালসিভ এক্সারসাইজ কী?

প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা। নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যায়াম কারও জন্য স্বাস্থ্যকর হলে আবার কারও জন্য হতে পারে অতিরিক্ত। বেশি খেয়ে ফেলার পর অনুশোচনা থেকে ব্যায়াম করছেন? কিংবা ‘ব্যায়াম করা উচিৎ তাই করছি’ এমন মনোভাব রয়েছে আপনার ভেতর? তাহলে বলতে হবে আপনার উদ্দেশ্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। কম্পালসিভ এক্সারসাইজের শুরুটা হয় কিন্তু এভাবেই। শরীরে আঘাত কিংবা ব্যথা নিয়েও ব্যায়াম করা, ব্যায়াম না করতে পারলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়া, পরের দিন বেশি বেশি ব্যায়াম করা, প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি ব্যায়াম করা —শরীরচর্চার সঙ্গে আপনার সুন্দর সম্পর্কটি নষ্ট হয় এভাবেই।

কম্পালসিভ এক্সারসাইজ কি ক্ষতিকর?

কম্পালসিভ এক্সারসাইজের ফলে আমাদের দেহে শারীরিক এবং মানসিক অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে, যেগুলোর কোনোটাই স্বাস্থ্যকর নয়। যেমন হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়, অনেক ক্লান্ত হলেও ঘুম আসে না অর্থাৎ অনিদ্রা হয়, সারা শরীরে ব্যাথা এবং ক্লান্তি থাকে (ফ্যাটিগ), শরীরে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ইত্যাদি।

নারীদের মধ্যে যারা কম্পালসিভ এক্সারসাইজ করেন তাদের হতে পারে এমিনোরিয়া নামের এক রোগ, যার ফলে স্বাভাবিক ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যায়। আঘাত পেয়ে কিংবা অসুস্থ হয়েও যারা ব্যায়াম করেন তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইটিং ডিজঅর্ডারের সঙ্গে কি কম্পালসিভ এক্সারসাইজের কোনো সম্পর্ক আছে?

না, কম্পালসিভ এক্সারসাইজের সঙ্গে ইটিং ডিজঅর্ডারের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে যারা রাতারাতি স্লিম ফিগার পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যায়ামে আসক্ত হয়ে পড়েন, অনেক সময়ই দেখা যায় তারা খাওয়াদাওয়াও ছেড়ে দিচ্ছেন। নিজের দৈহিক গঠন নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকায় যারা ইটিং ডিজঅর্ডারে ভুগেন, তাদের অনেকেই বেশি বেশি ব্যায়াম করেন, এমন নজিরও আছে। দুটো সমস্যা যাদের একসঙ্গে দেখা দেয়, তাদের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।

কীভাবে বুঝব আমি এই সমস্যায় আক্রান্ত?

কষ্ট করলেই কেষ্ট মেলে—এই বাণী আমরা হর হামেশাই শুনি। কিন্তু ব্যথা নিয়েও ব্যায়াম করা সব সময় সুফল বয়ে আনে না। শরীরে আঘাত পেয়ে কিংবা অসুস্থ হলেও ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, বরং এটি কম্পালসিভ এক্সারসাইজের লক্ষণ।

আবার কেউ কেউ আছেন, যারা সারা দিনের কাজের মধ্যে ব্যায়ামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। যদি কোনো কারণে ব্যায়াম না করা হয় তাহলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ খাবারের বেলায় অতিরিক্ত সচেতন হয়ে ওঠেন, কিছু বেশি খেয়ে ফেললেই অনুশোচনার শেষ থাকে না—এগুলো সবই কম্পালসিভ এক্সারসাইজের লক্ষণ।

যদি কেউ দিনে একাধিকবার ব্যায়াম করেন, এরপরও ফলাফল নিয়ে খুশি না হন, তাহলেও বুঝতে হবে তিনি এই সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া মাঝে মাঝে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, কোনোভাবেই দেহের গঠন নিয়ে খুশি হন না।

সমাধানের উপায় কী?

কম্পালসিভ এক্সারসাইজ একটি মানসিক সমস্যা। অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যায়াম করার পেছনে থাকতে পারে অন্য কোনো কারণ। হয়ত আক্রান্ত ব্যক্তি হতাশাগ্রস্ত, এই মানসিক চাপ কাটাতে তিনি ব্যায়ামকে বেছে নিয়েছেন। একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞই পারবেন এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে। তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

আমাদের দেশে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে গড়িমসি করেন। যদিও বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়াই উচিৎ, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন:

# নিজের দেহকে ভালবাসতে শিখুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি মানুষের দৈহিক গঠন আলাদা। রাতারাতি দৈহিক গড়ন বদলে ফেলা সম্ভব নয়।

# পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা করে বয়স, ওজন এবং উচ্চতা ভেদে নিজের জন্য ব্যালেন্সড ডায়েট তৈরি করুন। তা মেনে চলুন। নিজেকে বোঝান, একদিন বাড়তি খেয়ে ফেললে অনুশোচনার কিছু নেই।

# অসুস্থ লাগছে? শরীরে আঘাত পেয়েছেন? কিংবা গতকাল বেশি ব্যায়ামের ফলে গা ব্যথা করছে? আজকের দিনটা বিশ্রাম নিন। একদিন বিশ্রাম নিলে আপনি মুটিয়ে যাবেন না।

# কোনো কারণে একদিন ব্যায়াম করতে না পারলে পরের দিন বেশি ব্যায়াম করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া উচিৎ নয়। এতে শরীরের আরও বেশি ক্ষতি হয়। প্রতিদিনের রুটিন অনুসরণ করুন।

# ব্যায়ামকে বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে নয়, মজার কিছু হিসেবে দেখুন। পরিবার কিংবা বন্ধুদের ব্যায়ামের সঙ্গী করে নিন, গান শুনতে শুনতে ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন একই ব্যায়াম না করে নতুন কোনো ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

# ঘুমানোর সময় মাথা থেকে যাবতীয় চিন্তা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করুন। বালিশের পাশে বই রাখুন, চোখ বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। এই সময়টায় ব্যায়াম কিংবা ফিগারের চিন্তা পুরোপুরি বাদ দিন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে এখনি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন #mytonic লিখে।

১০৮৭ বার পড়া হয়েছে জুলাই ২৬, ২০১৬


১০৮৭ বার পড়া হয়েছে


tonicadmin's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

আমি প্রচুর পরিমানে খাই কিন্তু আমার স্বাস্থ্য হয় না কেন....কি করলে আমার স্বাস্থ্য হবে একটু বলেন প্লিজ উত্তর দেখুন

star

Answered 4 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

আগের চেয়ে আমার স্বাস্থ্য নাকি অনেকটা কমেছে যা আমার পরিচিত জনেরা সবাই বলে। তাই আমি কিছু দিন থেকে ... উত্তর দেখুন

star

Answered 5 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

কিভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারি? উত্তর দেখুন

star

Answered 5 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top