আমাদের ইমিউন সিস্টেমে রয়েছে নানা ধরণের অসংখ্য কোষ। দেহকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি কোষের নিজস্ব ভূমিকা আছে। আর এসবের নিখুঁত সমন্বয়ের ফলাফল হল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি। এটি দুই ধরণের। প্রথমটি আমাদের জন্মগত, আর দ্বিতীয়টি বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণ মোকাবেলা করতে করতে আমরা অর্জন করি। শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক কিছু ঘটলেই ইমিউন সিস্টেম এতে সাড়া দেয় এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেহকে বাঁচায়।

ক্যান্সার একটি বিশেষ ধরণের রোগ যেখানে দেহে কিছু কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। সাধারণত দেহের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম অস্বাভাবিক যে কোন কোষকেই চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে সমস্যা হয় যখন ক্যান্সার সেল এই প্রক্রিয়াটি ঘটতে দেয় না। কখনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে এমনটা হতে পারে। আবার কখনো ক্যান্সার কোষ এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে ইমিউন সিস্টেম তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় না। ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক মেকানিজম এক্ষেত্রে অকেজো হয়ে পড়ে।

রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপীর মাধ্যমে বহুদিন ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসা হয়ে আসছে। সম্প্রতি ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে ইমিউনোথেরাপী। এ পদ্ধতিতে ক্যান্সারের অস্বাভাবিক কোষকে ধ্বংস করতে আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে কাজে লাগানো হয়। ইমিউনোথেরাপী কাজ করে দু’ভাবে। প্রথমত এটি দেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করে। দ্বিতীয়ত ক্যান্সার সেলের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। দেখা গেছে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম যখন ক্যান্সার কোষকে সনাক্ত করতে পারে, ক্যান্সারের চিকিৎসায় এর যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়।

মানবদেহ প্রকৃতির এক বিস্ময়। এর সম্পূর্ণ সামর্থ্যের পরিধি আজও আমাদের জানা হয়ে ওঠেনি। মানব মস্তিষ্ক নিত্য নতুন গবেষণায় আমাদের চমৎকৃত করছে। এক সময়কার নিশ্চিত প্রাণঘাতী রোগ ক্যান্সার আজ চিকিৎসাযোগ্য। তবে এটিও সত্যি যে প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিগুলোর অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। হয়তো আমাদের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যে চিকিৎসা ইমিউনোথেরাপী সেটিই অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সারকে জয় করবার মূল অস্ত্র হয়ে উঠবে।

agency_content's picture
লিখেছেন
টনিক
Tonic is there to assist you no matter how big or small your problems may be