আমাদের দেহের জরুরী অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কোনগুলো? প্রশ্ন শুনেই মনে আসে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ইত্যাদির কথা। কিন্তু এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে যে আবরণটি পরম যত্নে ঢেকে আগলে রাখে সেই ত্বকের কথা ভুলে গেলে কি চলে? শুধু ঢেকে রাখাই নয়, ত্বক আমাদের জোগায় সুরক্ষা, দেয় সৌন্দর্য।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের ত্বকের আয়তন হিসেব করলে দাঁড়ায় প্রায় দুই বর্গমিটার, আর ওজন সাড়ে তিন কেজির কিছু বেশী। এর তিনটি স্তর রয়েছে। সবচেয়ে বাইরের স্তরটি, যার নাম এপিডার্মিস, কেরাটিন দিয়ে তৈরী। কেরাটিন আসে কেরাটিনোসাইট নামে এক ধরণের কোষ থেকে। এই কোষগুলো প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে আর নতুন কোষ জন্মে জায়গা নেয় মৃত কোষের। এছাড়া এপিডার্মিসে রোগ প্রতিরোধক কিছু কোষও থাকে যা জীবাণু দেহে প্রবেশ করতে নিলেই আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সতর্ক করে দেয়। এপিডার্মিসের নিচের স্তরটির নাম ডার্মিস। এতে থাকে রক্তনালী, বিভিন্ন রকম গ্রন্থি এবং চুলের ফলিকল। এসবের মাধ্যমে তাপমাত্রা, ত্বকের নমনীয়তা ও শক্তি ইত্যাদি বজায় থাকে। আর ত্বকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর সাবকিউটিস মূলত ফ্যাট দিয়ে তৈরী যা দেহের ভেতরে অঙ্গগুলোর চারদিকে সুরক্ষা আবরণ জোগানোর পাশাপাশি জরুরী অবস্থায় খাদ্যের রিজার্ভ হিসেবে কাজ করে।

অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে যে ত্বককে সাধারণ মনে হয়, তার মধ্যে রয়েছে অনেক জটিল কলাকৌশল। আর এসবের অসাধারণ সমন্বয়েই ত্বক তার প্রতিটি কাজ করে চলে নিখুঁতভাবে। প্রথমত তা বাইরের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বর্ম হয়ে। হোক গরম কি ঠান্ডা, কড়া রোদ, ধুলো বা ক্ষতিকর রাসায়নিক, ত্বক এর কোনটিকেই দেহের আভ্যন্তরীণ অঙ্গের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। দ্বিতীয়ত, ত্বকের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুণে তা আমাদের জীবাণু সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। তৃতীয়ত এতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু, যা বাইরের জগতের সমস্ত বোধ মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। এছাড়াও ত্বক দাঁত ও হাড়ের ক্যালসিয়াম মেটাবোলিজমের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্য করে।

ত্বক আসলে এক আশ্চর্য সৃষ্টি। দৈহিক সৌন্দর্যের জন্য যেমন আমরা এই অঙ্গের কাছে ঋণী, তেমনি দৈহিক সুস্থতার জন্যেও। পরিবেশের সমস্ত রোগজীবাণু আর ক্ষতির বিরুদ্ধে ত্বক আমাদের প্রথম ঢাল। তাই এই এক ও অদ্বিতীয় অঙ্গটির যত্ন নিন, একে সুস্থ রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন।

agency_content's picture
লিখেছেন
টনিক
Tonic is there to assist you no matter how big or small your problems may be