মানসিক চাপের ৮ লক্ষণ

কর্মব্যস্ত জীবনে দুশ্চিন্তা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। আমরা যে মানসিক চাপের মধ্যে আছি, তা আমরা নিজেরাই অনেক সময় বুঝতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে হতে পারে মারাত্মক সব স্বাস্থ্য সমস্যা। আর তাই মানসিক চাপের লক্ষণগুলো চিনে নেয়া খুব জরুরি।

মানসিক চাপের লক্ষণ

দুশ্চিন্তা যে আপনার মনে ঘর করছে, তা হয়তো আপনি টেরও পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনার দেহ তা ঠিকই বুঝতে পারবে এবং আপনাকে ইঙ্গিতও দেবে।

১. নিয়মিত মাথা ব্যথা

মাথা ব্যথা কালে ভদ্রে হতেই পারে, কিন্তু যদি প্রতিদিনের নিয়ম করে মাথা ব্যথা তখন বুঝবেন এটি স্বাভাবিক নয়। মানসিক চাপে থাকলে অনেকের মাইগ্রেনের ব্যথা চলতে পারে টানা অনেক দিন।

২. ঘুমের ব্যাঘাত

দুশ্চিন্তা করলে স্বাভাবিক ঘুম হয় না। হয়তো অনেক রাতে শুতে গেছেন, ঘুম হল ছাড়া ছাড়া। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পালালো সেইটুকু ঘুমও। আর দীর্ঘদিন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা মানে অসুখ ডেকে আনা।

৩. শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা

হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই আতঙ্ক গ্রাস করা (প্যানিক অ্যাটাক) মানসিক চাপের অন্যতম লক্ষণ।

৪. চামড়ার সমস্যা

টেনশন থেকে মুখে ব্রণ হওয়া অনেকের জন্যেই সাধারণ ঘটনা। ব্রণ ছাড়াও চামড়ার বিভিন্ন অসুখ যেমন একজিমা, সোরিয়াসিস মানসিক চাপের কারণে হটাৎ বেড়ে যেতে পারে।

৫. বুকে ব্যথা

অনেকের মানসিক চাপ থেকে বুকে ব্যথা শুরু হয়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

৬. বুকে জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যা

মানসিক চাপে অনেকেরই অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়, ফলে বুকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭. কাশি

দুশ্চিন্তা থেকে লাগাতার খুসখুসে কাশি হয় অনেকের, কারও আবার মুখের ভেতর ঘা হয়।

৮. হাড়ে ব্যাথা

হাড়ের সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং শরীর ব্যথাও হতে পারে মানসিক চাপের কারণে।

তাহলে কি করবেন?

যদি এমন কোন লক্ষণ আপনার দেহে টের পান, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া যা করতে পারেন:

# প্রিয়জনের সঙ্গে আপনার দুশ্চিন্তা ভাগ করে নিন। কোনো কিছু নিয়ে খুব মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তা একা একা সহ্য করবেন না! কোনো সমাধানের পথ না পেলেও একটু হালকা লাগবে ঠিকই।

# মাথার ওপর কাজের পাহাড় জমে আছে? সব নিজে নিজে না করে সাহায্য নিন সহকর্মী কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের। দরকার হলে তাকে বুঝিয়ে দিন কাজের ধরন, তাও নিজেকে একটু রেহাই দিন।

# নিজের জন্য সময় বের করুন। কাজ তো থাকবেই, তার মাঝে নিজেকে ভুলে গেলে কি চলবে? প্রতিদিন নিজের জন্য একটু সময় বের করে, সে সময়টুকু পছন্দের কোনো কাজ করে ব্যয় করুন। দেখতে পারেন প্রিয় কোনো অনুষ্ঠান, পড়তে পারেন কোনো বই, কিংবা গল্প-আড্ডায় কাটিয়ে দিন সময়টুকু। তবে মনে রাখবেন, এই সময়ে কাজের কথা ভাবা যাবে না একদম।

# নিয়মিত ব্যায়াম করুন। যোগব্যায়াম কিংবা যেকোনো ধরনের ব্যায়াম আপনাকে যেমন রাখবে সুস্থ, তেমনই মনকে রাখবে প্রাণবন্ত।

# বেড়িয়ে আসুন কাছে পিঠে কোথাও। সারা সপ্তাহ কাজ লেগেই থাকে, মাঝে একটি দিন যদি ছুটি পান তাহলে তা আলসেমি করে নষ্ট করবেন না। জোর করে হলেও ভ্রমণ করুন। বেশি দূরে নয়, কাছাকাছি কোথাও লং ড্রাইভে চলে যান। সত্যি বলছি, আপনি ঠকবেন না!

# নিজের শখ পূরণ করুন। হয়ত এক সময় ভালো গিটার বাজাতেন কিংবা ছবি আঁকতেন। সময় পেলেই ঢুকে পড়ুন সেই শখের জগতে। খেয়াল রাখবেন, শখ বলতে কিন্তু শপিং করা কিংবা পেট পুরে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়নি।

মনে রাখা চাই

মানসিক চাপ সব বয়সী মানুষের হতে পারে। এমনকি স্কুলের হোমওয়ার্কের বোঝাও হতে পারে কোনো শিশুর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। যদি আপনার পরিবারের কোনো সদস্য দুশ্চিন্তায় থাকে, তাকে সাহায্য করুন। নাহলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুকির শিকার হতে পারেন তিনি।    

আর্টিকেলটি ভালো লাগকে এখনি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন #mytonic লিখে।

১৩২৮ বার পড়া হয়েছে জুন ২৭, ২০১৬


১৩২৮ বার পড়া হয়েছে


tonicadmin's picture

লিখেছেন টনিক

ভালো থাকতে ছোট বড় সব চেষ্টায় আপনার পাশে আছি আমরা। টনিক।

সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন

আমি প্রচুর পরিমানে খাই কিন্তু আমার স্বাস্থ্য হয় না কেন....কি করলে আমার স্বাস্থ্য হবে একটু বলেন প্লিজ উত্তর দেখুন

star

Answered 4 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

আগের চেয়ে আমার স্বাস্থ্য নাকি অনেকটা কমেছে যা আমার পরিচিত জনেরা সবাই বলে। তাই আমি কিছু দিন থেকে ... উত্তর দেখুন

star

Answered 4 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

কিভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারি? উত্তর দেখুন

star

Answered 5 days ago by

Dr. Dilara Maqbool

Topic: Healthy Living

টনিক ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন

আজই টনিকের সকল সাধারণ ফিচার উপভোগ করুন

আপনার গ্রামীণফোন নাম্বারটি প্রদান করুন

০১৭ -

Top