গরমকালে সাধারণত যেইসব বিষয় গুলো লক্ষনীয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সর্দি-কাশি, হিট স্ট্রোক এরপর আসে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ,ঘামাচি ,পানিশুন্যতা ইত্যাদি । কিন্তু এগুলো ছাড়াও এই সময় আরো বেশ কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। জেনে নিন এই রোগগুলো কি কি এবং কিভাবে এর থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

চিকেন পক্সঃ শিশুদের মধ্যে এইসময় এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশ দেখা যায়। Varicella Zoster নামক ভাইরাসের কারণে এই রোগ হয়। এটা মূলত বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া হাঁচি-কাশি না থাকলেও এই রোগ ছড়াতে পারে। মূলত আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছুঁয়ে দিলে অথবা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এই রোগের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে অন্য সুস্থ ব্যাক্তি অর্থাৎ যার কখনো চিকেন পক্স হয়নি বা যে এই রোগের ভ্যাক্সিন নেয়নি সে ব্যক্তি দ্রুত আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই রোগের প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির পুরো শরীরে ফোস্কার মতো হয়ে যায় এবং প্রচন্ড চুলকানি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ফোস্কার পানিও এই রোগ সংক্রামিত হওয়ার অন্যতম কারন।তাই রোগীর সংস্পর্শ সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা উচিত অথবা দেখা করার পর হাত ও পরিধেয় কাপড়-চোপড় ভালো করে জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত। এইসময় ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ ও চিকিৎসা নেয়া উচিত। এছাড়া বর্তমানে চিকেন পক্সের ভ্যাক্সিনও রয়েছে। সময়মতো ভ্যাক্সিন নিয়ে নেয়া উচিত।

হামঃ Measles virus এর কারণে হাম হয়। হাম ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগও চিকেন পক্সের মতো করেই ছড়িয়ে পড়ে। সর্দি ,কাশি, খুব বেশি জ্বর এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া মূলত এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। পরবর্তীতে লাল লাল র‍্যাশ সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুখের ভেতরের দিকেও সাদা ফুসকুড়ি হয়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা যাওয়ার ২/৩ দিনের মধ্যেই এইসব লক্ষণ প্রকাশ পায় । এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে শিশুদের ছোটবেলায়ই MMR ভ্যাক্সিন দেয়া হয়।

হেপাটাইটিস এঃ হেপাটাইটিস এ পানিবাহিত রোগ। হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগ হয়। এই রোগ মানুষের লিভারকে (যকৃত) আক্রমণ করে। এর ফলে জন্ডিস দেখা দেয় অর্থাৎ চোখ, ত্বক হলুদ রঙের হয়ে যায় এবং প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয়ে যায়। হেপাটাইটিস এ এর ভ্যাক্সিন রয়েছে। তবে ব্যাক্তিগত সতর্কতা খুব বেশি প্রয়োজন। বাইরের খোলা খাবার, শরবত  খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পানি অবশ্যই ফুটিয়ে পান করতে হবে।

 টাইফয়েডঃ টাইফয়েড একপ্রকার পানিবাহিত রোগ। Salmonella typhi নামক জীবাণু থেকে এইরোগের বিস্তার। খুব জ্বর, মাথা ঘুরানো, বমি বমি লাগা,  দুর্বলতা, প্রচন্ড পেট ব্যাথা, মাথা ব্যথা, ক্ষুধা মন্দা, এবং মাঝে মাঝে র‍্যাশ এই রোগের লক্ষণ।  যথাসময়ে চিকিৎসকের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিলে সুস্থতা সম্ভব। এছাড়া বর্তমানে টাইফয়েডের ভ্যাক্সিনও পাওয়া যায়।

তাই এই সময় শিশুসহ সকলকেই সাবধানে এবং সতর্কতার সাথে জীবন-যাপন করা উচিত। সচেতনতাই হতে পারে সর্বোত্তম প্রতিকার।

 
agency_content's picture
লিখেছেন
টনিক
Tonic is there to assist you no matter how big or small your problems may be